ফ্রিল্যান্সিং-২

ফ্রিল্যান্সিং কি! কিভাবে ফ্রিল্যান্সিং করবেন! পর্ব-১

by admin
313 views
আজকে আপনাদের জন্য একটা ইন্টারেস্টিং বিষয় নিয়ে আলোচনা করবো।বিস্তারিত জানার জন্য ধৈয্য ধরে পড়তে হবে। কথা না বাড়িয়ে আলোচ্য বিষয়ে চলে যাওয়া যাক।আজকের আলোচ্য বিষয় হলোঃ ফ্রিল্যান্সিং করতে গেলে কি কি জানা আবশ্যক, ফ্রিল্যান্সারদের কাজের হাল্কা উদাহরণ, কিছু হাইডিমান্ডেবল কাজ। পোস্ট বেশি বড় হয়ে গেলে দুই পার্ট করে দিব।

প্রথমে আপনার আইডি ঠিক করতে হবে। আইডি ঠিক করতে হলে অবশ্যই সব কিছু ভেরিফাই করে নিতে হবে। পোর্টফলিও এড করতে হবে। বিড কিনতে হবে। অনেকেই দেখি ইন্ট্রো মেম্বারশিপ নিয়ে এতো লাফালাফি করে। কয়েকদিন পর বলে ভাই ১৫ টা বিড দিয়ে একটাও প্রোজেক্ট পেলাম না। আরে ভাই থামেন প্রথম প্রথম আমার আইডিতে ১৫০০ বিড নেয়ার পরেও কাজ পেলাম না। প্রথমে ৩০ ডলারের একটা প্রোজেক্ট নিয়েছিলাম প্রায় ১ সপ্তাহ পরে। একটা ৫ স্টার রিভিউ এর জন্য অনেক পরিশ্রম করতে হয়েছিল। যাইহোক, আপনি বিড কিনলেন এরপরে বিড দিলেন। এরপর ক্লায়েন্টের যেটা দরকার সম্পূর্ণ সেটা যদি তাকে বুঝিয়ে দিতে পারেন তাহলে হয়ে যাবে। আর কিছুই করা লাগবে না। তবে ভালো কাজ দিলে ক্লায়েন্ট ভালো রিভিও দিবেই। তবে কিছু আছে ফাজিল। কাজ ভালো করলেও রিভিও বা রেটিং খারাপ দেয়। এসব নিয়ে চিন্তা করে লাভ নেই। পরের অংশে চলে যাচ্ছি তাহলে।
এখন কিছু ব্যাসিক প্রশ্ন করি।

ফ্রিল্যান্সিং কেন করবেন?
• ফ্রিল্যান্সিং সাইট গুলোতে কি কি কাজ   করতে পারবেন?
• আপনি কোনো কাজ জানেন না,   কিভাবে ফ্রিল্যান্সিং শুরু করবেন?
• ফ্রিল্যান্সিং নিয়ে আপনার কোনো ধারণা  নেই, আপনি কিভাবে ফ্রিজে করবেন?
•   আপনার কি কি শিখা উচিৎ?
• আপনি কোন মার্কেট প্লেসে কাজ শুরু  করবেন?
• আপনি মোটামুটি কাজ পারেন, কিন্তু কি করবেন পারছেন না?
• কভার লেটার লেখার নিয়ম?
• টাকা কিভাবে পাবেন?

এবার ধীরে ধীরে সব গুলো প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছি অপেক্ষা করে শুধু পড়েন আর মাথা খাটিয়ে বুঝেন।

ফ্রিল্যান্সিং কেন করবেন?

আপনারা যদি স্বাধীনতা পছন্দ হয়,নিজ বাসায় বা যে কোন স্থান থেকে কাজ করতে ভালো লাগে, তাহলে ফ্রিল্যান্সিং করতে পারেন।

ফ্রিল্যান্সিং সাইট গুলোতে কি কি কাজ করতে পারবেন?

একদম সহজ থেকে শুরু করি, আপনি যা জানেন তা দিয়েই কাজ শুরু করতে পারেন। লেখা লেখি, ডেটা এন্ট্রি,  প্রোগ্রামিং,  মার্কেটিং,  টাইপিং, ডিজাইনিং,  ইমেজ এডিটিং, প্রেজেন্টেশন তৈরি, ডেভেলপমেন্ট,  ভার্চ্যুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্ট সহ অনেক কিছু। নিচে ফ্রিল্যান্সার এর কি কি জব পাওয়া যায় তার একটা স্কিনশর্ট দেওয়া হল। ছবির উপর ক্লিক করলে বড় করে দেখা যাবে।

প্রথম ক্যাটাগরির স্কিনশর্ট দেই। তার পরে জবের স্কিনশর্ট দেই।

এবার কাজগুলো দেখুন

দেখছেন? এবার ভাবুন কোন কাজ আপনি পারেন আর কোন কাজ আপনি পারেন না।

আপনি যদি উপরের যে কোন একটি কাজও পারেন, তাহলে আপনি অনলাইনে কাজ করতে পারবেন। আপনি যদি এ কাজ গুলোর একটিও ভালো মত না পারেন, তাহলে আপনার কাছে যে বিষয়টা ভালো লাগে এমন একটা কাজ শিখে নিতে পারেন। কাজ শিখে নিতে বেশি সময় লাগবে না। ভয় পেলে বা শুরু না করলে কীভাবে শিখবেন? আজকের দিনটি আপনার প্রিয় বিষয়টি শেখা শুরু করার জন্য কি একটি ভালো দিন নয়?

আপনি কোনো কাজ পারেন না, আপনি কিভাবে ফ্রিল্যান্সিং করবেন?

কোন কাজ না জানলে শিখে নিন। যে কোন কিছুই শিখতে পারেন। বা উপরের স্কিনশর্ট থেকে দেখে যে সব বিষয় ভালো লাগে, সে গুলো নিয়ে পড়ালেখা করতে পারেন।

ফ্রিল্যান্সিং নিয়ে আপনার কোন ধারণা নেই। আপনি কি করবেন?

একটা কথা কি, মানুষ যা নিয়ে ঘাটাঘাটি করে সে দিকেই এক্সপার্ট হয়। কেউ প্রথম দিনই সফল হয় না। আপনি যদি আজ থেকেই ফ্রিল্যান্সিং শুরু করেন তাহলে আজই না হোক কাল বা এক মাস পর অথবা এক বছর পর এক জন সফল ফ্রিল্যান্সার হতে পারবেন। আর আপনি  যদি ফ্রিল্যান্সিং করতে গিয়ে ধোঁকা খান তাহলে আগামি কাল আপনি ঐসব দিক এড়িয়ে ভালো দিকে যেতে পারবেন। আপনি যদি প্রথাগত চাকরি করতে চান, তাহলে আজ থেকেই ফ্রিল্যান্সিং সম্পর্কে জানা শুরু করুন। এখানে কাজের অভাব নেই। বিষয়ের ও অভাব নেই। আপনি সহজে আপনার পছন্দের বিষয় নির্বাচন করে সামনে এগুতে পারবেন। অথবা একটা বিষয় নির্বাচন করলেন। তারপর দেখলেন আপনার ভালো লাগে না, আপনি সহজেই অন্য বিষয় পরিবর্তন করতে পারবেন।  তবে একটা বিষয়কে নির্বাচিত করে সামনে এগুলে ভালো। একটা বিষয় নিয়ে যে যত ঘাটবে সে তত ঐ বিষয় নিয়ে দক্ষ হতে পারবে। সংক্ষেপে বলতে গেলে, আপনি যদি গ্রাফিক্সের কাজ জেনে থাকেন তাহলে চেষ্টা করবেন সব সময় গ্রাফিক্স রিলেটেড কাজ করার জন্য। দক্ষ মানুষের স্থান সব সময় উপরের দিকে, এবার তা যে বিষয়েই হোক না কেন। আর কিছু কিছু ক্ষেত্র এক জন ফ্রিল্যান্সারকে এক সাথে অনেক কিছু কাজ করতে হয়। সাজতে হয় ওয়ান ম্যান আর্মি। যাই করুন না কেন, আপনার লক্ষ্য স্থির রাখতে হবে।

আপনার কি কি শিখা উচিৎ?

আগে যে কোন একটি বিষয়ে দক্ষ হতে হবে। এরপর? এরপর অনলাইন মার্কেটপ্লেস গুলোতে একটু সময় দিতে হবে। যারা অনেক দিন ধরে কাজ করে, তাদের প্রোফাইল দেখতে হবে। তাদের প্রোফাইল দেখে তাদের প্রোফাইলের মত নিজের প্রোফাইল সাজাতে হবে এবং ইংরেজিতে একটু দক্ষ হতে হবে। এমন না যে আপনাকে ফ্লুয়েন্টলি কথা বলতে হবে বা লিখতে হবে। অন্তত আপনাকে একটি জব পোস্ট পড়ে কি কি করতে বলছে, কি কি করতে হবে এবং ক্লায়েন্টের সাথে কথা বলার মত ইংরেজি জ্ঞান থাকতে হবে।

আপনি কোন মার্কেট প্লেসে কাজ শুরু করবেন?

আপনি যদি কিছু কাজ জানেন, তাহলে নিচের একটি ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে একাউন্ট খুলুন। একাউন্ট খুলে ঐ মার্কেটপ্লেস সম্পর্কে আগে ভালো করে জেনে নিন। প্রত্যেকটা মার্কেটপ্লেসে নিজের প্রোফাইল সাজাতে হয়। প্রোফাইলে নিজে কি কি কাজ পারি তা যুক্ত করতে হয়। নিজে যেটা পারি, সেটা সত্যি পারি কিনা, তা জানার জন্য অনলাইন পরিক্ষা দিতে হয়। এসব করতে পারলে বুঝতে পারবেন আপনি কাজ করার জন্য উপযুক্ত।  এরপর কাজ পাওয়ার জন্য, কাজ করার জন্য বিড করতে থাকুন। যে কাজটি করতে পারবেন বলে মনে হয় তাতে বিড করুন। ক্লায়েন্টকে সুন্দর একটা ম্যাসেজ দিন। কাজ পেতে বেশি সময় লাগবে না। আমি এখানে কিছু মার্কেটপ্লেসের লিংক দিচ্ছি। এর বাহিরে আরো অনেক গুলো মার্কেটপ্লেস রয়েছে।

https://www.upwork.com/

https://www.freelancer.com/

https://www.guru.com/

https://www.99designs.com/

https://www.fiverr.com/

https:www.getacoder.com/

আপনি মোটামুটি কাজ পারেন, কিন্তু কি করবেন পারছেন না?

কাজের জন্য বিড করুন, নিয়মিত করবেন। যে কাজটা আপনি পারবেন বলে আপনি কনফিডেন্ট। যদি না পারেন,  তাহলে বিড করার পূর্বে গুগলে সার্চ করে ঐ কাজটি সম্পর্কে আইডিয়া নিন। আপনি শিখে নিতে পারেন। এভাবে শিখে শিখে এক্সপার্ট হয়ে যেতে পারবেন। সুন্দর করে যদি আপনি জবের জন্য এপ্লিকেশন করার সময় মেসেজ দিয়ে থাকেন, কেন আপনি কাজটি করতে চান, কিভাবে আপনি কাজটি সম্পুর্ণ করবেন, তা বুঝিয়ে দিলে একটা না একটা এপ্লিকেশনের রিপ্লাই পাবেনই। আর রিপ্লাই তে সাধারণত জিজ্ঞেস করা হয় কখন আপনি কাজটি শুরু করতে পারবেন, কত দিন সময় লাগবে ইত্যাদি। এগুলো সুন্দর মত বুঝিয়ে দিলে ক্লায়েন্ট আপনাকে কাজ দিবে।

কভার লেটার লেখার নিয়ম কি?

আপনি যদি নিয়মিত বিড করতে থাকেন, তারপর ও কাজ না পান তাহলে আপনার কভার লেটার টা একটু অন্যভাবে লেখার চেষ্টা করুন। ক্লায়েন্টের জায়গায় আপনাকে চিন্তা করুন। কিভাবে একজন কাজ করলে আপনি তাকে হায়ার করতেন। আশাকরি কাজ হবে। সবাই চায় অভিজ্ঞতা।  আপনার কভার লেটারে আপনি নিজে শেখার সময় যে কাজ গুলো করেছেন, সেগুলো দিতে পারেন।

কভার লেটার লেখার নিয়ম বলতে আসলে কিছু না। বিশাল একটা মেসেজের থেকে সিম্পল,  সরাসরি কাজের বিবরণ দিয়ে কভার লেটার লিখলে সহজেই ক্লায়েন্টের আকর্ষণ পাওয়া যায়। জব পোস্টটি পড়বেন, এরপর ক্লায়েন্ট কোন প্রশ্ন করেছে কিনা, সেগুলো কভার লেটারে উল্লেখ করবেন। আপনার কোন প্রশ্ন আছে কিনা, সে প্রশ্ন করবেন। আপনি কিভাবে কাজটি সম্পুর্ণ করবেন তা লিখবেন। কেন আপনি কাজটি কমপ্লিট করতে পারবেন, তা লিখবেন। এভাবেই পারফেক্ট কভার লেটার লিখে ফেলতে পারবেন। অন্য কাউকে ফলো না করে নিজের মনের থেকে যেটা লিখতে ইচ্ছে করবে তাই লিখবেন কভার লেটারে।

টাকা কিভাবে পাবেন?

আশা করি আপনি কাজ পাবেন। যদি কাজ না পান, তাহলে হতাশ হবেন না। নতুন কিছু শেখার চেষ্টা করুন নিয়মিত।  কাজ পান নাই বলে বসে থাকার কোন মানেই হয় না। আর কাজ ফেলে কমপ্লিট করার পর আপনার একাউন্টে টাকা জমা হবে। সেখান থেকে আপনি ব্যংকে ট্রান্সপার করতে পারবেন। অডেক্স, ইলেন্স ইত্যাদি ব্যংক সাপোর্ট করে। অন্যান্য মার্কেটপ্লেস থেকে আপনি মানিবুকার্স বা এমন কোন সিস্টেমে টাকা আনতে পারবেন। টাকা রুজি করলে দেখবেন হাতে আসার অনেকগুলো পথ পেয়ে যাবেন। কিভাবে টাকা হাতে পাবেন, সে চিন্তা আপাতত না করলেও হবে। সবার আগে কিভাবে একটি জব কমপ্লিট করতে পারবেন, তা নিয়ে কাজ কর‍তে থাকুন। কাজ কমপ্লিট করার পর টাকা ক্লায়েন্ট রিলিজ দেওয়ার পর আপনার মার্কেটপ্লেসের একাউন্টে জমা হবে এবং সেখান থেকে সহজে অনেকগুলো পথে আপনার নিজের হাতে টাকা নিয়ে আসতে পারবেন। পেপাল নেই বা আপনার কার্ড নেই, এসব নিতে এখন চিন্তা না করলেও হবে এবং এসব নেই বলে কাজ করা বন্ধ করার কোন মানেই হয় না।

টাকা হাতে আনার জন্য আপনি মাষ্টার কার্ডও ব্যবহার করতে পারেন। আপনাকে কার্ড দিবে। আপনি আপওয়ার্ক বা ফ্রিল্যান্সার থেকে কার্ড টাকা ট্রান্সফার করতে পারবেন এবং বাংলাদেশের যেকোনো এটি এম বুথ থেকে টাকা তুলতে পারবেন। কার্ডের জন্য ফ্রি আবেদন করার জন্য পেওনিয়ারের সাইডে গিয়ে সাইন আপ করুন। নাম, ঠিকানা, ইমেইল ইত্যাদি দেওয়ার সময় একটু নির্ভুলভাবে দেওয়ার চেষ্টা করুন। এরপর আপনার ঠিকানায় কার্ড চলে আসবে। ফ্রি কার্ড। পরে যেকোন সময় কার্ড টাকা ট্রান্সফার করে এক্টিভ করতে পারবেন। আর এক্টিভ করার পর আপনি যেকোন মার্কেটপ্লেসে কার্ড যুক্ত করে কার্ড টাকা ট্রান্সফার করতে পারবেন।

আজকের মত এখানেই থাকুক। আগামি পর্বে বাকিটুকু শেষ করবো। আজকে প্রায় ১৬০০ ওয়ার্ড হয়ে গিয়েছে, এতো বড় লেখা পড়তেই মাথা খারাপ হয়ে গেছে তাইনা? এতোক্ষন ধৈয্য ধরে পড়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।
আজকের মত বিধায় দেখা হবে আগামীতে ইনশা আল্লাহ।  ভালো থাকবেন।

ফ্রিল্যান্সিং নিয়ে  আরো ৫ টি পর্ব নিয়ে উপস্থিত হবো। IT Protidin এর সাথেই থাকুন।

Related Posts

Leave a Comment