ফ্রিল্যান্সিং

ফ্রিল্যান্সিং কি! কিভাবে ফ্রিল্যান্সিং করে টাকা আয় করবেন! পর্ব-২

by admin
54 views

ফ্রিল্যান্সিং কি! কিভাবে ফ্রিল্যান্সিং করে টাকা ইনকাম করবেন। পর্ব-২

সবাইকে আমার সালাম ও শুভেচ্ছা জানিয়ে ফ্রিল্যান্সিং এ দ্বিতীয় পর্ব লিখতে বসেছি। গতপর্বে যে আপনারা এতো সাড়া দিবেন আমার ধারণা ও ছিলো না। আশা করি আজকের পর্বে মোটামুটি নয়, পুরোপুরি ক্লিয়ার হয়ে যাবে। তাহলে চলুন শুরু করি।

গত পর্বে কিছু প্রশ্ন করেছিলাম এবং সাথে উত্তর ও দিয়েছিলাম। অনেকেই মেসেজ করেছিলো তারা খুব ভালোভাবে বুঝেছেন।  আশা করি যারা বুঝেছেন তারা স্কিল্ড পার্সন হয়ে কাজে নেমে পড়বেন। আর যারা এখনো বুঝতে পারছেন না আসলে কি করবেন তারা আমার লেখাটা আবার পড়েন। আশা করি সকল সমস্যা থেকে কিছুটা হলেও শান্তি মিলবে। আজকে আমি কিছু কিছু কাজের ধারণা বা উদাহরণ দিবো। আশা করি সবাই মন দিয়ে পড়ে বুঝার চেষ্টা করবেন। না বুঝলে কমেন্টে জানাবেন আপনার সমস্যার কথা, আশা করি আপনাকে হেল্প করতে পারবো।

তো শুরুতেই দেখুন যে কতো ধরনের কাজ করা যায় ফ্রিল্যান্সার মার্কেটপ্লেসে। প্রথমে ডিজাইনিং দিয়ে শুরু করি। তবে মনে রাখবেন, কাজ তো কাজই কোন কাজই ছোট না।

• ডিজাইনিং :

ডিজাইনিং এর অনেক ধরনের কাজ আপনি এখানে পাবেন। আপনাকে এজন্য ফটোশপ, ইলাস্ট্রেটরের কাজ জানতে হবে। এছাড়া ডিজাইনিং এর আরো অনেক ধরনের সফটওয়্যার আছে যেগুলো সম্পর্কে আপনার পূর্ণ ধারণা থাকতে হবে। তা না হলে ডিজাইনিং এর কাজ আপনি করতে পারবেন না। কারণ, ক্লায়েন্টের চাহিদা মাথায় রেখে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ধরনের ডিজাইন আপনাকে করতে হবে। অনেক ধরনের ডিজাইনিং এর কাজ আছে। যেমনঃ প্রেজেন্টেশন, ফটোগ্রাফি, এনিমেশন, লগো ডিজাইন, ইলাস্ট্রেটর, গ্রাফিক্স ডিজাইন ইত্যাদি।
এভাবে একটা একটা করে যদি বলতে যাই তাহলে অনেক লম্ভা পোস্ট হয়ে যাবে। তারপরেও শর্ট করে একটু বলি।

• প্রেজেন্টেশন :

ফ্রিল্যান্সিং-এ এটি মুলত বিজ্ঞাপন এর ক্ষেত্রে বেশি লাগে। এর মধ্যে;লেখা ও ছবিকে এনিমেশন রুপে বিভিন্ন স্টাইলে তৈরি করে উপস্থাপন করা হয়। MS Office এর গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো Microsoft Power Point, একে পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন বলা হয়। প্রেজেন্টেশন কথার অর্থ হলো উপস্থাপন করা। কোন বিষয় সম্বন্ধে বিভিন্ন তথ্যকে উপস্থাপন করার পদ্ধতিকে প্রেজেন্টেশন বলে। যেমন: বিভিন্ন আলোচনা চক্র, বিভিন্ন প্রদর্শনী,  সভাসমিতি  কনফারেন্স সেমিনার ইত্যাদি জায়গার কোন বিষয় বস্তুর উপর বক্তা তার মতামত দর্শক ও শ্রোতাদের কাছে উপস্থাপন করে থাকেন। কিন্তু বক্তার অনুপস্থিতিতে দর্শক ও শ্রোতাদের মনযোগ ও দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য বক্তা তার বিষয় বস্তুতে বিভিন্ন লেখা, ছবি, সাউন্ড, গ্রাফ ইত্যাদি ব্যবহার করেন। তারপর প্রজেক্টের এর মাধ্যমে দর্শকদের সামনে তুলে ধরেন। আর এই সমস্ত কাজ Power Point এ সহজে করা যায়। এছাড়া এরকম অনেক কাজ Power Point এ করা যায়।
• ফটোগ্রাফি :
টেকনিক্যাল ভাষায় বলতে গেলে একটা সময় অথবা একটা মোমেন্ট কে কোনো একটা মাধ্যমে আটকে ফেলা – এটাই সহজভাবে ফটোগ্রাফির সংজ্ঞা।

• অ্যানিমেশন :

অ্যানিমেশন বা সজীবতা হচ্ছে স্থির চিত্রের একটি ক্রম যেগুলোকে বিশেষ প্রক্রিয়া লক্ষ্য করলে জীবন্ত ও সচল বলে মনে হয়।
বাকি গুলা কম বেশি সবাই জানেন তাই আর বলছি না।
• রাইটিং :
ফ্রিল্যান্সিং এ কাজ করার জন্য আপনাকে সৃজনশীল হতে হবে। আপনাকে বিভিন্ন ধরনের টপিকের উপর লিখতে হতে পারে। আপনাকে ক্লায়েন্ট যে রাইটিং এর কাজ দিবে আপনাকে প্রথমে সে বিষয়ে রিসার্চ করতে হবে। তারপর পূর্ণ একটা ধারণা লাভ করার পর ঐ বিষয়ে লেখা শুরু করতে হবে। নিচে কিছু রাইটিং এর কাজের উদাহরণই দিলাম।
যেমন: বিজনেস প্ল্যান রাইটিং, ক্রিয়েটিভ রাইটিং, একাডেমিক রাইটিং, ওয়েবসাইট কন্টেন্ট রাইটিং, টেকনিক্যাল রাইটিং, সি.ভি ও কভার লেটার রাইটিং, গ্রান্ট রাইটিং, কপিরাইটিং, ব্লগ ও আর্টিকেল, পোস্ট রাইটিং ইত্যাদি।

• ওয়েব ডিজাইনিং এবং সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট :

আপনি যদি কোডিং এ ভালো হয়ে থাকেন তাহলে আপনি ওয়েব ডিজাইনিং এবং সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্টের কাজ করতে পারেন। এ ধরনের কাজের পেমেন্ট ও বেশি হয়ে থাকে।আপনি যেকোন ধরনের সফটওয়্যার তৈরি করতে হতে পারে। তাই ভালোভাবে এই বিষয়ে জ্ঞান থাকতে হবে। হতে পারে মোবাইল সফটওয়্যার বা কম্পিউটার সফটওয়্যার। তাহলে আপনি ফ্রিল্যান্সিং এ বেশ এগিয়ে থাকবেন।

•ট্রান্সফার :

আপনি যদি বিভিন্নধরনের দেশের ভাষা বুঝে থাকেন, তবে এই কাজ আপনার জন্য উপযোগী। কারণ, ট্রান্সলেশনের মত অনেক কাজ আছে এখানে। শুধুমাত্র ক্লায়েন্টদের চাহিদা মোতাবেক একটা কন্টেন্ট কে অন্য ভাষায় রুপান্তরিত করে দিতে হবে।

• অ্যাডমিন জবস বা সহজে যেটা বুঝায় সেটা হলো ডাটা এন্ট্রি জবস :

এ ধরনের কাজ মূলত ডাটা এন্ট্রি, ওয়েব রিসার্চ ইত্যাদি ধরনের হয়ে থাকে। যেমন: ডাটা এন্ট্রি,  টান্সক্রিপসন, ভার্চ্যুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্ট, প্রোজেক্ট ম্যানেজমেন্ট, ওয়েব রিসার্চ ইত্যাদি।

ডাটা এন্ট্রি কাজের উপরে হাল্কা একটু ধারণা দেই। ডাটা এন্ট্রি (Data Entry) হচ্ছে কম্পিউটারের মাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট ধরনের ডাটা একটি স্থান/প্রোগ্রাম থেকে অন্য আরকটি স্থানে/প্রোগ্রামে প্রতিলিপি তৈরি করা। ডাটাগুলো হতে পারে হাতে লেখা কোন তথ্যকে কম্পিউটারে টাইপ করা অথবা কম্পিউটারের কোন একটি প্রোগ্রামের ডাটা একটি স্প্রেডশীট ফাইলে সংরক্ষণ করা। কম্পিউটার ব্যবহারের শুরু থেকেই ডাটা এন্ট্রির ধারনা চলে এসেছে। বর্তমানে ইন্টারনেটের কল্যাণে তথ্যের আদান প্রদান বিস্তৃত হয়েছে, সেই সাথে বেড়েছে বিভিন্ন ধরনের ডাটাকে সুবিসন্নস্ত করে এর বহুবিধ ব্যবহার। তাই দক্ষ ডাটা এন্ট্রি অপারেটরের রয়েছে ব্যাপক চাহিদা। এধরনের কাজগুলো একা বা দলগতভাবে সম্পন্ন করা যায় এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কম্পিউটার এবং ইন্টারনেটের সাধারণ ব্যবহারের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। ফলে যে কেউ এই ধরনের কাজ করে ঘরে বসেই বৈদিশিক মুদ্রা আয় করতে পারে।

 

• প্রয়োজনীয় দক্ষতা :

ডাটা এন্ট্রি প্রজেক্টে বিভিন্ন ধরনের দক্ষতার প্রয়োজন হয় যা একটি প্রজেক্টের উপর নির্ভর করে। অনেক ধরনের প্রজেক্ট পাওয়া যায় যাতে শুধুমাত্র কপি-পেস্ট ছাড়া আর কোন দক্ষতার প্রয়োজনে হয় না। তবে সাধারণভাবে যে দক্ষতা গুলো সবসময়  প্রয়োজন পড়বে তারমধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে – দ্রুত টাইপ করার ক্ষমতা, মাইক্রোসফট ওয়ার্ড ও বিশেষ করে মাইক্রোসফট এক্সেলে পরিপূর্ণ দক্ষ এবং সর্বোপরি ইংরেজিতে ভালো জ্ঞান থাকা। তার সাথে রয়েছে ইন্টারনেটে সার্চ করে কোন একটা তথ্য খুজে পাবার দক্ষতাএবং বিভিন্ন ধরনের ওয়েবসাইট, ফোরাম, ওয়েব ডাইরেক্টরি সম্পর্কে ভালো ধারণা।

• ডাটা এন্ট্রি কাজের প্রকারভেদ :

ফ্রিল্যান্সিং সাইটগুলোতে যেসকল ডাটা এন্ট্রির কাজ পাওয়া যায় তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে-বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ফাইল, ছবি ইত্যাদি আপলোড করা, বিভিন্ন সাইট থেকে নির্দিষ্ট কিছু তথ্য এক্সেলের একটি ফাইলে সংরক্ষণ করা, ওয়েবসাইটের জন্য একটি নির্দিষ্ট বিষয়ের উপর আর্টিকেল লেখা, একটি ওয়েবসাইটকে বিভিন্ন ওয়েবসাইট, ফোরাম, গ্রুপে গিয়ে পরিচয় (Promote) করিয়ে দেয়া, দুটি ওয়েবসাইটের মধ্যে লিংক আদান প্রদান করা (Link Exchange), অনলাইনে বিভিন্ন পণ্য বিক্রি করতে সাহায্য করা, OCR (অপটিক্যাল কারেক্টার রিকগনেশন) থেকে প্রাপ্ত লেখার ভুল সংশোধন করা ইত্যাদি।
ডাটা এন্ট্রির অসুবিধা বলেই আজকের পর্ব শেষ করবো । এই বিষয়টা সবার জানা দরকার।

• অসুবিধা সমূহ :

যদিও ডাটা এন্ট্রি এর কাজ তুলনামূলকভাবে সহজ কিন্তু এই ধরনের কাজে অনেক ধরনের অসুবিধা রয়েছে, যা পূর্বে বিবেচনা করেই কাজে নামা উচিতঃ প্রথমত এই ধরনের কাজে অনেক বেশি বিড পড়ে, তাই প্রথম অবস্থায় কাজ পাওয়া খুব কঠিন। এই ধরনের কাজে আপনার মেধা বা দক্ষতা প্রমাণের প্রাথমিকভাবে কোন সুযোগ নেই। তবে ছোটখাট কয়েকটা কাজ সফলভাবে সম্পন্ন করে ফেলতে পারলে একই বায়ারের কাছ থেকে আরো অনেক কাজ পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ডাটা এন্ট্রি কাজগুলো সময়সাপেক্ষ, একঘেয়ে এবং প্রায় ক্ষেত্রে বিরক্তিকর। অনেক কাজের ক্ষেত্রে ইন্টারনেটের স্পীড খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে যেসব কাজে ফাইল আপলোড করতে হয় অথবা যে কাজগুলো খুব অল্প সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে, সেক্ষেত্রে দ্রুতগতির ইন্টারনেট সংযোগের প্রয়োজন রয়েছে। অনেক ডাটা এন্ট্রির কাজ রয়েছে যা একার পক্ষে একটি নির্দিষ্ট সময়ে শেষ করা সম্ভব নয়। এজন্য ৫ থেকে ১০ জনের একটা টিম গঠন করার প্রয়োজন পড়তে পারে। ডাটা এন্ট্রির কাজগুলো খুবই সতর্কতার সাথে এবং নির্ভুলভাবে করতে হয়। তাই শতভাগ নির্ভুল টাইপিং এবং কাজের সময় পূর্ণ মনযোগ রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

ফ্রিল্যান্সিং নিয়ে প্রথম পর্ব পড়তে এখানে ক্লিক করুন।
কমেন্ট করুণ আপনি কি কাজ সম্পর্কে জানতে চান। ইনশাহ আল্লাহ্‌ চেষ্টা করবো ততটুকু লেখার। যতটুকু আমার সাধ্যের মধ্যে আছে। ভাল লাগলে শেয়ার করতে ভুলবেন না। আজকের মত আসি। দেখা হবে আগামী পর্বে।সবাই ভাল থাকুন ।
আইটি প্রতিদিনের সাথেই থাকুন, আল্লাহ্‌ হাফেজ।

Related Posts

Leave a Comment