কোভিড-১৯

কোভিড-১৯, স্বাস্থ্য সংকট ও কার্যকরী চিকিৎসা পদ্ধতি আবিষ্কার~

by admin
92 views

কোভিড-১৯, স্বাস্থ্য সংকট ও কার্যকরী চিকিৎসা পদ্ধতি আবিষ্কার~

কোভিড-১৯ এই প্রজন্মের , এমনকি ১৯১৮ এর মহামারীর পর সবচেয়ে বড় স্বাস্থ্য সংকট। বিজ্ঞানীরা চেষ্টা করছে মহামারীর ভিতরে দ্রুততম সময়ে কার্যকরী কোনো চিকিৎসা পদ্ধতি উদ্ভাবন করার। উল্লেখ্য এখন পর্যন্ত কোনো চিকিৎসা পদ্ধতি আবিষ্কার হয়নি। আজ পর্যন্ত প্রায় ২২ লাখ মানুষ আক্রান্ত , এর মধ্যে মৃত ১ লাখ ৫০ হাজার।

Severe Acute Respiratory Syndrome- Corona Virus-2 (SARS-CoV-2) দ্বারা সৃষ্ট Novel Corona Virus Disease 2019 (nCOVID-19) এর বিশ্বব্যাপী মহামারীটি ডিসেম্বর ২০১৯ এ চীনের উহান শহরে শুরু হয়েছিল এবং এরপর থেকে সমগ্র বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়তে থাকে। আর এই ভাইরাসের সর্বশেষ সংবাদটি ভয়াবহ। এটি আরএনএ ভাইরাস হওয়ায় এটি তার আচরণ দ্রুত পরিবর্তন করে এবং ফলশ্রুতিতে বিজ্ঞানীদের জন্য খুব কঠিন হয়ে পড়ে তার ভ্যাক্সিন তৈরী করা। তবে বিশ্বজুড়ে বিজ্ঞানীরা এই প্রজন্ম ধ্বংসকারী ভাইরাস থামানোর জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করে যাচ্ছেন।

উচ্চতর গবেষণা এবং অভিজ্ঞতার সঞ্চার করে বিজ্ঞানীরা কিছু ওষুধকে নোভেল কোভিড এর সাপোর্টিভ মেডিসিন হিসেবে ব্যবহার করতে চেয়েছেন। সেরকম কয়েকটি সম্পর্কে আলোচনা করা হলো

ক্লোরোকুইন ও হাইড্রক্সি-ক্লোরোকুইন

এই দুটি ওষুধের ইতিহাস অনেক আগের, বিশেষ করে ম্যালেরিয়ার বিরুদ্ধে এদের জয়জয়কার সবার জানা। এরা ফুসফুসের কোষগুলো কে অকার্যকর করে ভাইরাসের আক্রমন রুখে দেয়। তাই স্বভাবতই কোভিড-১৯ এর ক্ষেত্রে ও ক্লোরোকুইন হাইড্রক্সি-ক্লোরোকুইন কাজ করতে পারে বলে বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন। চীনে ১০০ জন রোগীর উপর এদের প্রয়োগে কিছু প্বার্শপ্রতিক্রিয়া সহ সফলতার কথা শোনা গিয়েছে। ৩৬ জন রোগী নিয়ে করা একটি ফ্রেঞ্চ গবেষণায় হাইড্রক্সি-ক্লোরোকুইন প্রয়োগে দেখা গিয়েছে রোগীরা দ্রুত সেরে উঠছেন , আবার হাইড্রক্সি-ক্লোরোকুইন এবং এজিথ্রোমাইসিন একসাথে প্রয়োগে শতভাগ রোগী খুব দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠছেন। যেখানে শুধু হাইড্রক্সি-ক্লোরোকুইন মনোথেরাপিতে রিকভারি রেইট ৫৭%।

Remdesivir

ইবোলা মহামারীর সময় এই ওষুধ টি ব্যবহার করা হলেও বর্তমানে বিজ্ঞানীরা আশাবাদী এই ওষুধ টি নিয়ে। কিছু সফল কেইস রিপোর্ট পাওয়া গিয়েছে Remdesivir নিয়ে। এর নিরাপত্তা ও এন্টিভাইরাল এক্টিভিটি পর্যালোচনায় ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল এখনো চলমান । তবে এই ওষুধ টি শুধু মাত্র আঠারো বছরের নিচে ও গর্ভবতীদের জন্য ব্যবহার করা যাবে।

Favipiravir

এটি মূলত Avigan হিসেবে পরিচিত ইনফ্লুয়েঞ্জা আর ইবোলার বিরুদ্ধে সমান ভাবে কার্যকর এই মেডিসিন প্রয়োগে জাপান সফলতা পেয়েছে। কিন্তু জাপান ছাড়া আর কোথাও ক্লিনিক্যালি ইউজ এর জন্য Avigan মজুদ নেই।
জাপানের ফুজিফিল্ম কোম্পানি এই ওষুধ টির উপর অনেকগুলো ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল চালাচ্ছে। তারা বলছে এই ওষুধ টি রোগীদের রিকভারি সময় কমিয়ে আনে, জ্বর, কফ ও অন্যান্য সমস্যা থেকে দ্রুত সুস্থ করে তুলে। শুধু তাই নয় কোম্পানিটি তাদের উৎপাদন ও কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে
এছাড়াও আরো কয়েকটি মেডিসিন নিয়ে বিজ্ঞানীরা কাজ করছেন। আশা করি বিজ্ঞানীরা করোনা ভাইরাস এর এন্টিভাইরাল ও ভ্যাকসিন আবিস্কার করতে সমর্থ হবেন।
এটা চিকিৎসা শাস্ত্র ও গোটা লাইফ সাইন্স এর জন্য একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে।

লেখকঃ আসিফ হাসান

Related Posts

Leave a Comment