ইরফান খান, দ্য সিনে পোয়েট অফ বলিউড - IT Protidin
ইরফান খান

ইরফান খান, দ্য সিনে পোয়েট অফ বলিউড

by admin
73 views

ইরফান খান, দ্য সিনে পোয়েট অফ বলিউড 

ইরফান খান, ভারতীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাসে হিরোইজমের বাইরে যারা সাধারনের জীবনের সাথে সিনেমার সংযোগ ঘটাতে পেরেছিলেন, গল্পকে যারা সিনেমায় শিল্প করে তুলতে পেরেছিলেন সেই সব ভিন্ন ধারার একজন।

রাজস্তানের পাঠান পরিবারে জন্ম নেয়া এই গুনী অভিনেতার প্রকৃত নাম শাহেবজাদা ইরফান আলি খান। ছেলেবেলার সখ ছিলো ক্রিকেটার হওয়া। কিন্তু সেটা আর হয়ে উঠে নি ক্রিকেট প্রিয় এই অলরাউন্ডারের। বলা হয়ে থাকে ক্রিকেটে ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে না পারার পেছনে তার পরিবার অনিহা দায়ী ছিল। অভিনয়ের দিক থেকে নাসিরুদ্দিন শাহ এর অভিনয় ইরফান খান কে প্রভাবিত করেছিলো অনেক।

ইরফান খান অভিনয়ের জন্য জয়েন করে দিল্লির ন্যাশানাল স্কুল অব ড্রামায়। কিন্তু সেখানে চান্স পাওয়াও একটা বড় ব্যাপার ছিলো। মনুজ বাজপেয়ীর মতো গুনী অভিনেতাকে সেখানে ভর্তির জন্য তিন বার পরীক্ষা দিতে হলেও ইরফান খান প্রথমবারই চান্স পেয়ে যান। যদিও এ জন্য তিনি কিছুটা মিথ্যার আশ্রয় ও নিয়েছিলেন কারন ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের ইতোমধ্যে কিছু ড্রামার অভিজ্ঞতা থাকতে হতো যেটা ইরফানের না থাকলেও তিনি ট্যাকনেক্যালি পার পেয়ে গিয়েছিলেন।

ইরফান খান শাখাহারি প্রিয় ছিলেন বলে উনার বাবা প্রায়ই মজা করে বলতেন পাঠান পরিবারে ব্রাহ্মণ জন্ম নিয়েছে।

ন্যাশানাল স্কুল ইব ড্রামার স্কলারশিপ পেয়ে গ্রাজুয়েশন শেষ করেও কাজ পাওয়া খুবই কঠিন হয়েছিলো ইরফানের জন্য। প্রচলিত আছে যে তিনি কিছুদিন এসি রিপেয়ার হিসেবেও কাজ করেছেন এমনকি অভিনেতা রাজেশ খান্নার বাড়িতেও তিনি এসির কাজ করেছেন।

শ্রিকান্থ, ভারাত এক খোজ, কাহকাশা, চাণক্য, চন্দ্রকান্ত এর মতো অনেক টিভি সিরিয়ালেও বিভিন্ন ভূমিকায় ইরফান খান অভিনয় করেছেন। কিন্তু টিভি কখনোই তাকে সেই ভাবে টানতে পারে নি।

১৯৮৮ সালে মিরা নাইর এর ‘সালাম বোম্বে’ সিনেমায় ইরফান খানকে লিড রোলে কাস্ট করা হলেও পরবর্তীতে লিড রোল থেকে ইরফানকে বাদ দেয়া হয়। ইরফানের মন রক্ষার জন্য পরবর্তীতে ঐ সিনেমায় একটি রোলে তাকে অভিনয়ের সুযোগ দেয়া হয়েছিলো। যদিও এই সিনেমার কাস্ট পরিবর্তনের কারনে ইরফান খুবই কষ্ট পেয়েছিলেন।

এরপর তিনি কালাম কি মৌত, দৃষ্টি, এক ডাক্তার কি মৌত, পিতা, মুজসে দোস্তি কারোগি, কারামতি কোট, দ্যা ক্লাউড ডোর, এর মত সিনেমায় অভিনয় করলেও ব্যবসা সফলতা এনে দিতে পারে নি।

কিন্তু ২০০১ এর ‘দ্যা ওয়্যারিওর‘ সিনেমা ইরফানকে এনে দেয় সেই কাঙ্ক্ষিত অর্জন। তারপর মাকবুল, স্লামডক মিলেনিয়্যাম, লাইফ অব পাই, জোরাসিক পার্ক, লাঞ্চবক্সের মতো অসংখ্য খ্যাতনামা সিনেমা উপহার দিয়েছেন।পরবর্তীতে তিনি কয়েকটি টিভি সিরিজেও কাজ করেছেন।

ইরফান খান তাঁর একটা ইন্টারভিউতে উনি বলেছিলেন,

“জীবনে আমি সব পেয়েছি, যা চেয়েছি। তবে তখন না, যখন চেয়েছি। যখন সঠিক সময় হয়েছে সৃষ্টিকর্তা আামাকে দিয়েছেন। তার জন্য অপেক্ষা করতে হয়।!

ইরফান খানের বায়োগ্রাফি নিয়ে বই লিখেন বিখ্যাত লেখক আসিম চাবরা “ইরফান খান, দ্যা ম্যান, দ্যা ড্রিমার, দ্যা স্টার” নামে।

পদ্মশ্রী ও বেস্ট এক্টর জাতীয় চলচ্চিত্র পুরুষ্কার প্রাপ্ত এই গুণী অভিনেতা দীর্ঘদিন যাবৎ ক্যান্সারে ভুগে ৫৩ বছর বয়সে আজ মৃত্যুবরণ করেছেন। ওই গুনী অভিনেতার প্রতি আমাদের রইলো শ্রদ্ধা ও ভালবাসা।

মৃত্যুশয্যায় ইরফানের শেষ কথা ছিলো-‘আম্মা আমাকে নিতে এসেছেন’

“I suppose, in the end, the whole of life becomes an act of letting go. But what always hurts the most is not taking a moment to say good bye.” 🖤

(7 January 196729 April 2020)

লেখকঃ আতিক হাসান

“বাঙালী যীশু” নিয়ে পড়তে  ক্লিক করুন। আইটি প্রতিদিনের সাথেই থাকুন।

Related Posts

Leave a Comment