বেন্ড ইট লাইক বেকহ্যাম - IT Protidin
বেকহ্যাম

বেন্ড ইট লাইক বেকহ্যাম

by admin
136 views

বেন্ড ইট লাইক বেকহ্যাম

“বেকহ্যাম”, “ওহ নো চান্স এট অল ফর দ্য গোলকিপার” “গোল!!!”

এটাই ছিলো লা লীগার নিত্যদিনকার চিত্র। গ্যালাটিকোদের হিরোর অভাব ছিলো না দলে। কখনো ফিগো, কখনো জিদান কিংবা হালের রাউল , রোনালদো ফেনোমেনন নায়ক বনে যেতেন। কিন্তু ব্যার্নাব্যুর যে এক রাজপুত্র ছিল। নায়ক হবার জন্য ফুটবল মাঠে পা রাখাই যথেষ্ঠ ছিল তার। ছন্দময় স্টেপ, পুরো শরীরটাকে কার্ভ করে অসম্ভব সব ক্রস , এসব কিছুই তাকে নিয়ে গেছে অনন্য উচ্চতায়। আধুনিক ফুটবল পাসিং রেঞ্জ, ক্রসিং এবিলিটি আর ট্রেডমার্ক ফ্রিকিকের জন্য তাকে মনে রাখবে বহুকাল। রাইট উইংগার ও সেট পিস টেকার হিসেবে সর্বকালের অন্যতম সেরা‌ বলাটাও যথার্থ। হ্যা বলছিলাম বেকহ্যামের কথা। ডেভিড রবার্ট যোসেফ বেকহ্যাম (জন্ম মে ২, ১৯৭৫) ইংরেজ ক্লাসি ফুটবলার। না বললেও চলতো বৈকি !

শুরু করেছিলেন ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে সতেরো বছর বয়সে। রায়ান গিগস , গ্যারি নেভিল, পল সোলসদের মতো খেলোয়াড়দের সাথে একসাথে ম্যানচেষ্টারের ইউথ একাডেমিতে বেড়ে উঠা। তারপর রেড ডেভিলদের হয়ে মাঠ কাঁপানো। মূলত স্যার এলেক্স ফার্গুসনের তারুণ্য নির্ভরশীলতাই বেকহ্যামের জন্য ইউনাইটেডের দরজাটা খুলে দেয়। পল ইনক্ , মার্ক হিউজেস আর আন্দ্রে কানচেলস্কির ক্লাব ছাড়ার পর বেকহ্যাম, নিকি বাট, ফিল ও গ্যারি নেভিলদের মত তরুণদের সুযোগ করে দেন ফার্গুসন । এটা ১৯৯০ এর কথা , তখন এটা নিয়ে রেড ডেভিল ফ্যানরা কম জ্বালাতন করেনি ফার্গিকে। পরবর্তীতে ঠিকই সবাইকে চমকে দিয়েছে এরা।
কানচেলস্কির মতো রাইট উইংগার এর জায়গায় খেলতে নেমে নিজেকে রাইট মিডে প্রতিষ্ঠিত করে ফেলেন বেকহ্যাম। অবশ্য এর ফলে ফার্গুসনের ট্যাকটিক্স পরিবর্তন করতে হয়েছে। দিনশেষে ফার্গি সফলই হয়েছেন। ১৯৯৬-৯৭ মৌসুমে তার অসাধারণ পারফরম্যান্স এর স্বীকৃতি স্বরূপ হয়েছিলেন সেরা তরুণ খেলোয়াড়। এর পর আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি।আবার ১৯৯৬ এর আগস্ট ১৭, উইলম্বডনের বিরুদ্ধে ৬০ ইয়ার্ড দূর থেকে করা গোলটি চ্যানেল ফোরের Best football moment জরিপে ১৮ তম হয়েছিল।
বেকহ্যামের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় সাফল্য রেড ডেভিলদের হয়ে ট্রেবল জয়। ৯৮_৯৯ সিজনে ইউনাইটেডের এই ট্রেবল জয়ে সবচেয়ে বেশি অবদান রাখেন তিনি।

কিন্তু ওল্ড ট্রাফোর্ডে শেষটা ভালো হয়নি তার। ২০০২-০৩ সিজনে ইনজুরির কারণে ওলে গানার সলার এর কাছে মূল দলে জায়গা হারান। দৃশ্য আরো খারাপ হয় আর্সেনাল এর কাছে হেরে ড্রেসিং রুমে বুট কেলেংকারির পর। ম্যাচের পর হতাশায় ফার্গির লাথি মারা বুট যখন বেকহ্যামের চোখে আঘাত করে , তখনই বেকহ্যামের ইউনাইটেড ক্যারিয়ারের শেষটা হয়ে গিয়েছিল। হয় ফার্গুসন না হয় বেকহ্যাম দুজনের একজন ক্লাব ছাড়বেন এরকমই ধারনা হয়েছিল তখন।

তিনি দুইবার ফিফা বর্ষসেরা খেলোয়াড় নির্বাচনে দ্বিতীয় স্থান লাভ করেন। ২০০৪ সালে তিনি ছিলেন সর্বোচ্চ বেতন প্রাপ্ত পেশাদার খেলোয়াড়। এছাড়াও ২০০৩ এবং ২০০৪ সালে তিনি গুগলে খেলাধূলা সম্পর্কিত সর্বাধিক অনুসন্ধানকৃত ব্যক্তিত্ব।নভেম্বর ১৫, ২০০০ থেকে জুলাই ২, ২০০৬ পর্যন্ত বেকহ্যাম মোট ৫৮টি প্রতিযোগিতামূলক খেলায় ইংল্যান্ড ফুটবল দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০০৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপে দলের হতাশাজনক নৈপূণ্যের পর তিনি অধিনায়ক হিসাবে পদত্যাগ করেন।

বেকহ্যাম থাকা অবস্থায় ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ছয়বার প্রিমিয়ার লীগ, দুইবার এফএ কাপ এবং ১৯৯৯ সালে উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লীগ শিরোপা অর্জন করে। ২০০৩ সালে তিনি পাঁচ বছরের চুক্তিতে রিয়াল মাদ্রিদে যোগদান করেন। রিয়ালের হয়ে বিনা সাফল্যে তিনটি মৌসুম কাটানোর পর শেষ মৌসুমে এসে লা লিগা অর্জন করেন। জানুয়ারী, ২০০৭ সালে জানানো হয় যে, বেকহ্যাম লস এঞ্জেলস গ্যলাক্সির সাথে পরবর্তী পাঁচ বছরের জন্য চুক্তি বদ্ধ হয়েছেন । রিয়ালের হয়ে জুন ১৭, ২০০৭ সালে বেকহ্যাম তার শেষ ম্যাচ খেলেন।
গ্যালাক্সির সাথে জুলাই ১, ২০০৭ শুরু হওয়া চুক্তির ফলে তিনি এমএলএস ইতিহাসে সর্বোচ্চ বেতনভোগী খেলোয়াড়। গ্যালাক্সির হয়ে তার অভিষেক ঘটে জুলাই ২১, ২০০৭ সালে চেলসির সাথে এক প্রীতি খেলায়। দলের হয়ে আগস্ট ১৫, ২০০৭ সালে তিনি প্রথম প্রতিযোগীতামূলক খেলায় অংশ নেন ২০০৭ সুপার লীগার সেমি-ফাইনালে। এই ম্যাচে তিনি নিজে একটি গোল এবং আরেকটি গোলে সহায়তা করেন। লীগের প্রথম খেলায় অংশ নেন আগস্ট ১৮, ২০০৭ সালে নিউইয়র্ক রেড বুলস দলের বিপক্ষে। রেকর্ড সংখ্যক দর্শকের সামনে এই খেলায় বেকহ্যাম দুইটি গোলে সাহায্য করেন।

বেকহ্যাম ইংল্যান্ডের ইতিহাসে অন্যতম দীর্ঘমেয়াদী অধিনায়ক। তিনি মোট ৫৮টি খেলায় ইংল্যান্ডের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ২০০৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপে ইকুয়েডরের বিপক্ষে ফ্রি কিকে দেয়া গোলের সুবাদে বেকহ্যাম ফুটবলের দুইটি একচেটিয়া ক্লাবের সদস্য হবার গৌরব অর্জন করেনঃ একমাত্র ইংরেজ এবং যে কোন জাতীয়তায় একুশতম খেলোয়াড় যিনি তিনটি বিশ্বকাপে গোল করেছেন এবং বিশ্বকাপ ইতিহাসের পঞ্চম খেলোয়াড় যিনি দুইটি ফ্রি কিকে দেয়া গোলের মালিক। বাকি চারজন হলেন পেলে, রিভেলিনো, টিওফিলো, কিউবিলাস এবং বার্নাড। বেকহ্যামের অসাধারণ কিছু গোল দেখে নেওয়া যেতে পারে (click here)

অভিনয়

বেন্ড ইট লাইক বেকহ্যাম (Bend It Like Beckham)
চলচ্চিত্রটিতে ইচ্ছা থাকা স্বত্তেও বেকহ্যাম সময়ের অভাবে অভিনয় করতে পারেননি। বেকহ্যামের মতো দেখতে অ্যান্ডি হারমার তার অংশটুকুতে অভিনয় করেন। এছাড়াও এখানে বেকহ্যামের কিছু ভিডিও ব্যবহার করা হয়েছে।
দ্য গোল! ট্রাইলোজি (The Goal! Trilogy)
২০০৫ সালে মুক্তি প্রাপ্ত গোল চলচ্চিত্রে অল্প সময়ের জন্য বেকহ্যাম অভিনয় করেন। এই চলচ্চিত্রটিতে বেন্ড ইট লাইক বেকহ্যামে বেকহ্যাম চরিত্রে অভিনয়কারী অ্যান্ডি হারমারও বেকহ্যামের একটি দৃশ্যে অভিনয় করেন।
গোল! ২ (লিভিং দ্য ড্রিম) এ বেকহ্যাম দীর্ঘসময়ের জন্য অভিনয় করেন। ছবিটির প্রধান চরিত্র রিয়াল মাদ্রিদে যোগদানের পর এই ছবির কাহিনী রচিত হয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ এবং বেকহ্যামকে ঘিরে।

২০১৩ এর ৩১ জানুয়ারি প্যারিস সেইন্ট জার্মেইন থেকে অবসর নেন এই কিংবদন্তি খেলোয়াড়। ক্যারিয়ারের উথ্থান পতনেও ফুটবলকে উপভোগ করে গেছেন। আর তার পাশে সবসময়ই ছিলেন স্ত্রী ভিক্টরিয়া। যার কাছে বেকহ্যাম সবসময়ই গোল্ডেন বয়। আমাদের কাছেও বটে! জন্মদিনে শুভেচ্ছা গোল্ডেন বয় ❤️

লিখেছেন: আসিফ হাসান

“প্রিয় ৯০ মিনিট” আর্টিকেলটি পড়তে ক্লিক করুন, আইটি প্রতিদিনের সাথেই থাকুন।

Related Posts

Leave a Comment