ফ্রিল্যান্সিং

ফ্রিল্যান্সিং কি! কিভাবে ফ্রিল্যান্সিং করে টাকা আয় করবেন!পর্ব-৪

by admin
36 views

আজকের বিষয় হলো “ফ্রিল্যান্সিং জগতে নতুন হিসেবে আপনার কোন কাজটা শিখা দরকার?”

আমাকে অনেকেই প্রশ্ন করে থাকেন “ভাই আমি তো ফ্রিল্যান্সিং জগতে নতুন,তাহলে আমি কোন কাজটা আগে শিখবো?কোন কাজটা শিখলে আমার জন্য ভালো হবে”?এরকম প্রশ্ন হাজারটা দেখেছি।তাই ভাবলাম এটা সম্পর্কে একটু লেখালেখি করা যাক।আশা করি যারা নতুন তাদের উপকারে আসবে।অন্তত যারা কাজ শিখে বসে আছেন কিছুই করছেন না তাদের জন্য বেশ উপকারী হবে আশা রাখছি।চলুন তাহলে শুরু করা যাক।

প্রথমত আপনাকে কাজ পেতে কয়েক সপ্তাহ এমনকি মাসও লেগে যেতে পারে।এক্ষেত্রে ধৈর্য্য ধরতে হবে,হতাশ না হয়ে ধৈর্য্য ধরে বিড(Bid) করে যাবেন।এখন বলতে পারেন বিড মানে কি(বিড সম্পর্কে নিচের দিকে আলোচনা করা আছে)?  প্রথমত আপনার কাজের ভালো পোর্টফলিও তৈরী করুন এবং চেষ্টা করুন প্রথম কাজটি কম মুল্যে বিড করার তাহলে কাজ পাবার সম্ভাবনা বেশি থাকে।সম্ভব হলে এরকম কাজ যদি আগে সম্পন্ন করে থাকেন তাহলে ক্লায়েন্ট কে সেটার নমুনা দেখানোর জন্য। এতে করে ক্লায়েন্ট যদি আপনার কাজের নমুনা দেখে পছন্দ করে তাহলে আপনার প্রজেক্ট পাবার সম্ভাবনা বেড়ে যাবে।কোনো কাজ না জানলে সে প্রজেক্ট  সম্পর্কে বিড করা উচিৎ হবে না।অনেকেই না বুঝে বিড করে থাকেন এবং ভাবেন কাজটি পেলে অন্য কারো সাহায্য নিয়ে সম্পন্ন করে ফেলবেন। কাজ না জেনে খুব বেশি দূর যাওয়া সম্ভব নয়।ইন্টারনেটে অসংখ্য ধরনের কাজ পাওয়া যায়। আপনি যে কাজই করে থাকুন না কেন চেষ্টা করবেন যাতে পরিপূর্ণভাব সেই কাজের আগে দক্ষ হয়ে তারপর কাজের জন্য আবেদন করা।

সাধারণত যেসকল কাজ তুলনামূলকভাবে একটু কঠিন এবং কম বিড পড়ে, সেধরনের কাজ পাওয়ার সম্ভাবনা একটু বেশি থাকে।তাই ফ্রিল্যান্সিং শুরু করার পূর্বে সব ধরনের কাজ একটু পর্যবেক্ষণ করে নেয়া ভালো। কখন কোনটা কাজে লাগে বলা মুশকিল।

ইংরেজিতে পারদর্শী হওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রজেক্টের চাহিদা বুঝা এবং সে অনুযায়ী ক্লায়েন্টের সাথে সাবলীলভাবে যোগাযোগ করার ক্ষমতা থাকা প্রয়োজন। ক্লায়েন্ট তাদের চাহিদা বিড রিকোয়েস্ট  এর সাথে সম্পুর্ণ ভাবে  উল্লেখ না ও করতে পারে। সেজন্য যতটুকু সম্ভব ক্লায়েন্টকে প্রশ্ন করে বিষয়টা ক্লিয়ার করে নেয়া উচিৎ। তারপর প্রজেক্টের রিকোয়ারমেন্ট বায়ার/ক্লায়েন্টকে লিখে জানান।এতে বায়ারের চাহিদা সম্পর্কে আপনি নিশ্চিত হতে পারবেন এবং কাজ করার সময় আপনার পরিশ্রম অনেকখানি কমে যাবে। প্রশ্ন করলে বায়াররা খুশি হন,এতে করে তারা আপনার কাজের আগ্রহ সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পারে।

সম্পুর্ন কাজকে কয়েকটি ধাপে ভাগ করুন এবং প্রতিটি ধাপ শেষ হবার পর পর ক্লায়েন্টকে দেখান। ডেডলাইন শেষ হওয়ার পূর্বেই সম্পুর্ন কাজটি শেষ করুন এবং ক্লায়েন্টের কাছে পাঠিয়ে দিন। ক্লায়েন্টের কাছে কাজ পাঠানোর পূর্বে রিকোয়ারম্যান্ট গুলো ভালো করে দেখে নিন কোথাও কোন ভুল আছে কি না। সবসময় চেষ্টা করবেন যাতে কাজ শেষে সর্বোচ্চ রেটিং পাওয়া যায়। ভালো রেটিং পেলে পরবর্তীতে খুব সহজেই কাজ পাওয়া যায়। ভালো রেটিং পাওয়ার উপায়গুলো হচ্ছে
. সঠিকভাবে কাজটি করা।
. সময়মতো কাজটি শেষ করা।
. ক্লায়েন্টের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ করা।
রেটিং দেবার পূর্বে ক্লায়েন্টকে জিজ্ঞেস করে নেয়া উচিৎ সে আপনার কাজে সন্তুষ্ট কি না। কাজে এবং কথাবার্তায় সবসময় সৎ থাকতে হবে,কথা এবং কাজের মিল থাকতে হবে। কখনো ভুল তথ্য ক্লায়েন্টকে প্রদান যাবে না। কোনো কারনে কাজ করতে না পারলে বা কঠিন মনে হলে  ক্লায়েন্টকে বিষয়টি খোলাখুলিভাবে বলে দিবেন। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ক্লায়েন্টের কাছ থেকে যথাযথ সহায়তা পাওয়া যায়।

অনেকে এমন প্রশ্ন করেছেন যে “ভাই বিড(Bid) মানে কি”?
বিড(Bid) মানে হচ্ছে কাজের জন্য Application করা। Job Application কে এক এক মার্কেটপ্লেসে এক এক ধরনের নামে ডাকা হয়। তবে ফ্রিল্যান্সাররা একে বিড(Bid) বলে থাকে।

যেহেতু বিড নিয়ে আলোচনা শুরু করেছি তাহলে এখন বিড নিয়ে বিশ্লেষণ করেই ফেলি। ফ্রিল্যান্সিং এর কাজ করার জন্য অনেকগুলো মার্কেটপ্লেস রয়েছে, তবে কিছু মার্কেটপ্লেস আছে যা সবার কাছে জনপ্রিয়। তার মধ্যঃ
1. Upwork.com
2. Freelancer.com
3. Fiver.com
4. Guru.com
5. Peopleperhour.com
6. 99 Design.com
মূলত এই মার্কেটপ্লেসগুলো অনেক জনপ্রিয়। এখানে খুব সহজেই কাজ পাওয়া যায়।

বিড করার ব্যাপারে অনেক ক্রিটিক্যাল বিষয় থাকে। সেগুলো অবশ্যই সতর্কতার সাথে লিখতে হয়। আসুন জেনে নেই কোন বিষয় গুলো জেনে রাখলে কাজ পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।

বিড/প্রপোজাল

প্রোজেক্টের বিড করার জন্য যে বক্স পাবেন সেটাকে একেক মার্কেটপ্লেসে একেক নামে ডাকা হয়। যেমনঃ প্রপোজাল বক্স,কভার লেটার ইত্যাদি। এবার সুন্দর করে প্রপোজালে আপনার স্কিল লিখুন। তবে মনে রাখবেন উল্টা  পাল্টা প্রোজেক্টে বিড করবেন না। এটাও মাথায় রাখবেন বিড/প্রপোজাল এমন ভাবে লিখতে হবে যেন ক্লায়েন্ট আপনার বিডটি দেখার পরে আপনার দক্ষতা সম্পর্কে সম্পূর্ণভাবে জানতে পারে। তবে কিছু ব্যাপার মাথায় রাখবেন। মনে করেন প্রোজেক্ট পড়েছে ডাটা এন্ট্রির আর আপনি বিড করলেন গ্রাফিক্স ডিজাইনের তাহলে কিন্তু সমস্যায় পড়ে যাবেন। উল্টা পাল্টা বিড করলে যদি ক্লায়েন্ট রিপোর্ট করে বা যদি কোনো ফ্রিল্যান্সারা রিপোর্ট করে তাহলে আইডি টিকিয়ে রাখতে  সমস্যা হবে। সুতরাং সতর্কতা অবলম্বন করবেন। আগে ভালো করে প্রোজেক্টটা পড়বেন এরপরে বিড করবেন। বিড প্রপোজাল লেখার শুরুতে সম্বোধন সূচক কোনো ওয়ার্ড দিয়ে শুরু করবেন যেমনঃ Dear/Hi Andrew (যদি ক্লায়েন্টের নাম প্রোজেক্টে উল্লেখ করে থাকে তাহলে তার নাম ধরে লিখবেন) আপনাদের বোঝার জন্য বা বিড এর ব্যাপারে যাতে আরো সুন্দর ধারনা পান এর জন্য নিচে একটা প্রপোজাল এর স্যাম্পল দিলাম।  Hi Andrew! I’m a PDF expert,with over 3 years experience. I can help fix your scans. I’ve previously worked on the exact same project for another employer {link to my positive review from the previous employer}. When do you need this finished by? I understand how annoying it is, and can get this fixed for you quickly! Please see the sample I fixed and I look forward to working on this project with you. 

তবে হ্যাঁ, প্রপোজালটি যেনো কপি পেস্ট না হয়। সম্পূর্ণ নিজে থেকে লিখবেন কাজ সম্পর্কে কতটুকু বুঝেছেন বা জেনেছেন সেগুলো লিখে দেওয়ার চেষ্টা করবেন। এমন কিছু লিখবেন না যেটা আপনি করতে পারবেন না। অর্থাৎ যা কিছু লিখবেন ১০০% সত্য এবং clearly লিখবেন।

প্রথম পর্ব

দ্বিতীয় পর্ব

তৃতীয় পর্ব

আজ এই পর্যন্তই, আপনাদের সাথে ফ্রিল্যান্সিং নিয়ে আরো দুটি পর্ব নিয়ে খুব শিঘ্রই উপস্থিত হবো। আইটি প্রতিদিনের সাথেই থাকুন।

Related Posts

Leave a Comment