"শুভ জন্মদিন মিঃ ডিপেন্ডেবল, মুশফিকুর রহিম" - IT Protidin
মুশফিকুর রহিম

“শুভ জন্মদিন মিঃ ডিপেন্ডেবল, মুশফিকুর রহিম”

by admin
109 views

“শুভ জন্মদিন মিঃ ডিপেন্ডেবল, মুশফিকুর রহিম”

তিন ম্যাচের ওডিয়াই সিরিজ খেলতে অস্ট্রেলিয়া তখন ঢাকায়। বিশ্বকাপে ৫৮ এবং ৭৮ রানে অলআউট হওয়ার স্মৃতি যেমন তরতাজা তেমনি তরতাজা বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডে হারানোর অবিস্মরণীয় স্মৃতি। সিরিজের প্রথম ওডিয়াইতে মুশফিকের ব্যাটে ৫৮ বলে ৪৪ রানের অপরাজিত ইনিংস, দ্বিতীয় ম্যাচে ৮০ বলে ৮১। এরপর থেকে মুশফিকের ব্যাট পাগলা ঘোড়া।
গল্প টা বাংলাদেশের মি. ডিপেন্ডেবল এর!

এখনো পর্যন্ত ওয়ানডে ক্রিকেট ইতিহাসে ৪ নাম্বার ব্যাটিং পজিশনে খেলেছেন ২৬১১ জন ব্যাটসম্যান। তাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ৪ নাম্বার ব্যাটিং পজিশন থেকে রান এসেছে ১৬৯৮১১০ রান। তার মধ্যে লাল সবুজের জার্সিতে বাংলাদেশ কে লিডিং করেছে ৩৪ জন। তাদের সম্মিলিত রান এসেছে ১০২৫৩ রান।

আমরা যদি ক্রিকেট ইতিহাস লক্ষ্য করি তাহলে দেখবো ১৯৭১ সালের পর থেকে ওয়ানডে ক্রিকেটের পথচলা। তারপর থেকে ৪ নাম্বারে উইলো হাতে দাড়িঁয়েছেন ২৬১১ জন। তন্মধ্যে আমাদের মুশি রান সংগ্রাহকের দিকে ১০ম স্থান দখল করে নিয়েছে। মুশফিকুর রহিম ৪ নাম্বার ব্যাটিং পজিশনে ব্যাট চালিয়েছেন ১০০ ইনিংস আর রান করেছেন ৩৭৮৩ রান। যা মুশফিক ওয়ানডে ক্রিকেট ইতিহাসে ৪ নাম্বারে ব্যাট করা ব্যাটসম্যানদের মধ্যে জায়গা পাইয়ে দিয়েছে ১০ম স্থানে। আর চিনিয়েছে লাল সবুজ পতাকা!!

তবে মজার, আনন্দ এবং গৌরবের ব্যাপার হচ্ছে সর্বশেষ ১০ বছরের তথ্য। গত ১০ বছরের তথ্য দেখা হয় তাহলে চোখে ভাসবে এক লিটল মাস্টারের সৌরভে ঝলমল করেছে এক শুশীতল লাল সবুজের মানচিত্রের দেশের নাম বাংলাদেশ। হ্যা বন্ধুরা সর্বশেষ ১০ বছরের তথ্য দেখি তবে দেখবো ৪ নাম্বার ব্যাটিং পজিশনে গত ১০ বছরে সব চেয়ে বেশি রান করাদের তালিকায় ৩য় অবস্থানে রয়েছে মুশফিক। তালিকার বরাবরের মতোই ৬১৪৮ রান নিয়ে তালিকার উপরে আছেন রস টেইলর। তারপরেই আছেন দক্ষিন আফ্রিকান বিধ্বংসী ব্যাটসম্যান এবি ডি ভিলিয়ার্স। বিগত ১০ বছরে ৪ নাম্বার ব্যাটিং পজিশনে তিনি ঝুলিঁতে পুরে নিয়েছেন ৩৯৯৬ রান।

এরপরেই রয়েছেন আমাদের মিস্টার ডিপেন্ডেবল মুশফিকুর রহিম। বিগত ১০ বছরে মুশফিক ৪ নাম্বার ব্যাটিং পজিশনে বাংলাদেশ কে উপহার দিয়েছেন ৪৪.০৯ ব্যাটিং গড়ে ৩৬৬০ রান। সাথে রয়েছে ৭ সেঞ্চুরি করার আভিজাত্য!

অথচ ক্যারিয়ারের শুরু থেকে নানা চড়াই উতরাই পেরিয়ে এ পর্যায়ে আসতে হয়েছে মুশফিকুর রহিম কে। ২০০৬ সালে ক্যারিয়ার শুরু পর থেকে ৪ বছরে অর্থাৎ ২০১০ পর্যন্ত মুশফিক ৬৯ ম্যাচ খেলে ২৪.২৭ গড়ে ১২৩৮ রান। কিন্তু কঠিন পরিশ্রমী মুশফিক পরের ১০ বছরে অর্থাৎ ২০১০ থেকে ২০২০ পর্যন্ত শুধু ৪ নাম্বার ব্যাটিং পজিশনেই করেছেন ৩৬৬০ রান যার সাথে গড় ৪৪.০৯। সব মিলিয়ে গত ১০ বছরে বছরে মুশির ব্যাট থেকে এসেছে ১৪৯ ম্যাচে ৪১.৪৭ গড়ে ৪৯৩৬ রান।

এখনো ভেসেছেন ক্রিকেটপ্রেমী দের ভালোবাসায় এবং কখনো হয়েছেন সমালোচিত। আবার ক্রিকেটপ্রেমীদের জেতাতে না পেরে ঝরিয়েছেন চোখের পানি। সে পানি হয়তোবা রয়ে গেছে ভক্তকুলের অগোচরে আর না হয়ে সরাসরি মাঠে। বার বার ব্যার্থ হয়েও মুশি ফিরেছেন কঠিন উদ্যমে। জিমে এবং প্র‍্যাকটিস সেশন ঝরিয়েছেন ঘাম। ম্যাচে খারাপ করলে সবার আগে মাঠে এসে প্র‍্যাকটিস শুরু করে দেওয়া হয়তোবা তারই উদাহরন। রান করেছেন রাশি রাশি আর তাই তিনি হয়েছেন ভক্তদের কাছে মি. ডিপেন্ডেবল। [এই অংশ সংগ্রহীত]

বাংলাদেশের সাবেক কোচ জেমি সিডন্সের ভাষ্যমতে, “রহিমের ব্যাটিং এতটা বহুমাত্রিক যে তিনি এক থেকে ছয় পর্যন্ত যে কোন অর্ডারে খেলতে পারেন। মুশফিক বগুড়া জিলা স্কুল এবং বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র ছিলেন। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মুশফিক ইতিহাস বিভাগে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী মুশফিক ইতিহাস বিভাগে প্রথম-শ্রেণীতে উত্তীর্ণ হন।

২০০৫ সালে ইংল্যান্ড সফরে মুশফিক প্রথমবারের মত জাতীয় দলে সুযোগ পান। ইংল্যান্ডের মাটিতে এটাই ছিলো বাংলাদেশের প্রথম সফর। অপরিচিত পরিবেশ এবং সীম বোলিংয়ের মোকাবেলায় তাই বাংলাদেশী ব্যাটসম্যানদের যথেষ্ট ভুগতে হয়। প্রস্তুতিমূলক ম্যাচ খেলে মুশফিক পরিবেশের সাথে ধাতস্থ হয়ে নেন। যার প্রমাণ সাসেক্সের বিরুদ্ধে তার ৬৩ রানের ইনিংস এবং নটিংহ্যাম্পশায়ারের বিরুদ্ধে করা অপরাজিত ১১৫* শুরুর দিকে যদিও তাকে কেবল উইকেট-কিপার হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছিল, গা গরমের ম্যাচগুলোতে তার ক্রীড়া প্রদর্শন নির্বাচকদের নতুন করে ভাবতে বাধ্য করে। ফলশ্রুতিতে লর্ডসে অনুষ্ঠিত সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে তিনি স্পেশালিস্ট ব্যাটসম্যান হিসেবেই দলে জায়গা করে নেন। ১৮ বছর বয়সী এই তরুণ প্রথম ইনিংসে মাত্র ১৯ রানেই প্যাভিলিয়নে ফেরত যান। দল অল আউট হয় ১০৮ রানে এবং সাকুল্যে তিনজন ব্যাটসম্যান দুই অঙ্কের ঘরে পৌঁছুতে সমর্থ হন। এ্যাংকেল ইনজুরির কবলে পড়ায় সিরিজের বাকি ম্যাচগুলো তার আর খেলা হয়নি।

২০০৬ সালে অনুষ্ঠিত অনূর্ধ-১৯ বিশ্বকাপে মুশফিক বাংলাদেশ দলকে নেতৃত্ব দেন। অন্যান্যদের মধ্যে এই দলে ছিলেন ভবিষ্যতের আন্তর্জাতিক তারকা সাকিব আল হাসান এবং তামিম ইকবাল মুশফিকের নেতৃত্বে দলটি কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত যেতে সমর্থ হয়।

২০০৬ সালের জিম্বাবুয়ে সফরে মুশফিক আবার জাতীয় দলে সুযোগ পান। এই ট্যুরে তার সাথে সাথে ফরহাদ রেজা এবং সাকিব আল হাসানেরও ওয়ানডে অভিষেক হয়। হারারেতে জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে মুশফিক তার প্রথম হাফ-সেঞ্চুরি করেন এবং পরের বছর ওয়েস্ট ইন্ডিজে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের জন্য খালেদ মাসুদের স্থলাভিষিক্ত হন।

জুলাই, ২০০৭ সালে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে দ্বিতীয় টেস্টে মুশফিক আবার দলে ডাক পান। এক ইনিংস ও ৯০ রানের বিশাল ব্যবধানে বাংলাদেশ পরাজিত হয়। মুশফিক, মোহাম্মদ আশরাফুলকে সঙ্গী করে ষষ্ঠ উইকেট জুটিতে রেকর্ড ১৯১ রান করেন। ৮০ রানের একটি চমৎকার ইনিংস খেলে খালেদ মাসুদের ক্যারিয়ারের ১২ টা বাজিয়ে দেন।

২০১৫ ক্রিকেট বিশ্বকাপে অনবদ্য ৭১ রানের ইনিংসের জন্য বাংলাদেশ বনাম আফগানিস্তান ম্যাচে তিনি ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন।

২০০৯ এর জিম্বাবুয়ে সফরে মুশফিক বাংলাদেশের সহ-অধিনায়ক নির্বাচিত হন। তৎকালীন অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা আঘাতপ্রাপ্ত হওয়ায় সাকিব তার স্থলাভিষিক্ত হন এবং সহ-অধিনায়ক সাকিবের দায়িত্ব পান মুশফিক। ২০১০ এর ২১ জানুয়ারী ভারতের বিরুদ্ধে হোম সিরিজের প্রথম টেস্টের পঞ্চম দিনে মুশফিক তার ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি করেন। মাত্র ১১২ বলে সেঞ্চুরি করে তিনি বাংলাদেশের দ্রুততম টেস্ট সেঞ্চুরির মালিক হন। ১১৩ রানের ব্যবধানে ভারত ম্যাচটি জিতে নেয়।

ঐ বছরের ৮ নভেম্বর ওয়ানডেতে মুশফিক তার সেরা ইনিংসটি খেলেন। জাতীয় ক্রিকেট লীগের একটি ম্যাচে তিনি রাজশাহীর হয়ে ১১৪ বলে করেন ১২০ রান। ডিসেম্বর, ২০১০ এ মুশফিকের জায়গায় তামিম ইকবাল সহ-অধিনায়কের দায়িত্ব পান।

২০১১ সাল থেকে বাংলাদেশ জাতীয় দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন শুরু করেন। তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ এশিয়া কাপে নিজেদের সেরা সাফল্যে রানার্সআপ হয়।

টেস্ট ক্রিকেটে মুশফিকের অধিনায়কত্বেই বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া ও শ্রীলঙ্কাকে পরাজিত করে।

মুশফিকুর রহিম প্রথম বাংলাদেশি ব্যাটসম্যান হিসেবে টেস্ট ক্রিকেটে ডাবল সেঞ্চুরি করেন। ৩২১টি বল মোকাবিলা করে ২২ চার ও ১টি ছয়ের সাহায্যে ২০০ রান করেন। ২০১৩ শ্রীলঙ্কা সফরে তিনি এই রেকর্ডটি করেন। তিনি ৮ম উইকেট-রক্ষক যিনি টেস্টে ডাবল সেঞ্চুরি করেছেন এবং ৯ম ব্যাটসম্যান যিনি টেস্টে ৬ নম্বরে ব্যাটিংয়ে নেমে ডাবল সেঞ্চুরি করেছেন। ২০১৮ সালের নভেম্বরে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দ্বিশতক করার মাধ্যমে ইতিহাসের প্রথম উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান হিসেবে টেস্টে দুইটি দ্বিশতক করার রেকর্ড গড়েন মুশফিক। এছাড়া একমাত্র বাংলাদেশি হিসেবেও তিনটি দ্বিশতকের রেকর্ড তার।

১৯৮৭ সালের আজকের দিনে মাহবুব হামিদ ও রহিমা খাতুনের ঘর আলোকিত করে জন্ম নেওয়া মিতুর আজ ৩৩ তম জন্মদিন। আশা করি আরো দিন সার্ভিস দিবেন দলকে। অনেক জয়ের কান্ডারী হবেন ড্রেসিংরুমের বান্টুদা ❤

লিখেছেন : Tushar Abdullah

“দ্যা ফিনিসার, মাইকেল বেভান” নিয়ে পড়তে ক্লিক করুন। আইটি প্রতিদিনের সাথেই থাকুন।

Related Posts

Leave a Comment