নকল শেক্সপিয়ার এর গল্প-অর্ধেক লেখক অর্ধেক নারী - IT Protidin
শেক্সপিয়ার

নকল শেক্সপিয়ার এর গল্প-অর্ধেক লেখক অর্ধেক নারী

by admin
26 views

নকল শেক্সপিয়ার এর গল্প-অর্ধেক লেখক অর্ধেক নারী~

ইংল্যান্ডের স্ট্রাটফোর্ডে জন্ম নেয়া যে-শেক্সপিয়ারের কথা আপনারা শুনে আসছেন তিনি আসল শেক্সপিয়ার নন। আসল শেক্সপিয়ার অন্য কেউ। শেক্সপিয়ার একটি ছদ্মনাম। তাঁর আসল নাম-

ফ্রান্সিস বেকন, অথবা
এডওয়ার্ড ডি’ভিয়ার, অথবা
ক্রিস্টোফার মার্লো, অথবা
অন্য কেউ, অথবা কোনো নারী; কিন্তু শেক্সপিয়ার নন।

শেক্সপিয়ারের যে-ছবি আপনারা দেখে দেখে বড় হয়েছেন, সে-ছবি নকল ছবি। স্ট্রাটফোর্ডের যে-শেক্সপিয়ারকে আপনারা শেক্সপিয়ার ভাবেন তাঁর পক্ষে একটি হ্যামলেট, কিং লিয়ার, ও জুলিও সিজার রচনা করা সম্ভব নয়। কেন সম্ভব নয় তা আলোচনা করতে দীর্ঘ সময় লাগবে, কিন্তু কিছু উপসংহার আপনাদের শোনাতে পারি-

মার্ক টোয়াইন ও হেলেন কেলারের সিদ্ধান্ত হলো- বিখ্যাত দার্শনিক, ও তখনকার ইংল্যান্ডের লর্ড চ্যান্সেলর ফ্রান্সিস বেকনই আসল শেক্সপিয়ার। তিনি এটর্নি জেনারেল ও ভাইকাউন্ট হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছিলেন। শেক্সপিয়ারের নাটক ও সনেটগুলি খুব উঁচু ক্লাসিক্যাল কাজ, যা লিখতে উঁচু পড়াশোনা ও রয়্যাল কোর্টগুলোর সাথে পরিচয় থাকা আবশ্যক।

ফ্রান্সিস বেকন ছিলেন ক্যাম্ব্রিজ গ্রাজুয়েট, ও উঁচুমানের দার্শনিক। ভাইকাউন্ট এবং লর্ড চ্যান্সেলর হিশেবে তাঁর বহু রাজপ্রাসাদে সহজ আনাগোনা ছিলো। তিনি দর্শন ও বিজ্ঞান নিয়ে বেশি লিখতেন, ফলে নাট্যকর্মের জন্য তিনি শেক্সপিয়ার নামে একটি গোপন ছদ্মনাম ধারণ করেন।

সিগমুন্ড ফ্রয়েড ও কবি ওয়াল্ট হুইটম্যানের সিদ্ধান্ত হলো- এডওয়ার্ড ডি’ভিয়ারই আসল শেক্সপিয়ার। ডি’ভিয়ার ছিলেন অক্সফোর্ডের ১৭তম আর্ল, প্রচুর ভ্রমণ করা মানুষ, এবং ইতালীয় ভাষা ও সংস্কৃতির সাথে তাঁর গভীর জানাশোনা ছিলো। শেক্সপিয়রের বিভিন্ন নাটকে ইতালীয় পটভূমি রয়েছে। প্রাচীন ইতিহাসের প্রতিও ডি’ভিয়ারের প্রচন্ড আগ্রহ ছিলো, ফলে একটি জুলিও সিজার রচনা করা তাঁর পক্ষে অসম্ভব ছিলো না। প্রাচীন রোমান কবি ওভিদের ‘মেটামোরফোসিস’-এর একটি অনুবাদ আর্থার গোল্ডিং করেছিলেন, এবং আর্থার গোল্ডিংয়ের পরিবারের সাথে ডি’ভিয়ারের পরিবারের সম্পর্ক ছিলো। একাধিক গবেষকের ধারণা- আসল শেক্সপিয়ার যিনিই হন না কেন তাঁর কাজের উপর আর্থার গোল্ডিংয়ের ওই অনুবাদের প্রভাব ছিলো।

তৃতীয় সম্ভাবনাটি হলো শেক্সপিয়ারের সময়ের বিখ্যাত নাট্যকার, কবি, ও অনুবাদক ক্রিস্টোফার মার্লো। মার্লোও ক্যাম্ব্রিজ গ্রাজুয়েট ছিলেন। অনেকের ধারণা- ১৫৯৩ সালে মার্লো ছুরিকাঘাতে নিহত হন নি। ধর্মবিরোধী লেখার জন্য গ্রেপ্তার এড়াতে তিনি নিজেই মৃত্যুর নাটক সাজিয়ে আত্মগোপন করেন, কারণ ওই ভুয়া মৃত্যুর মাত্র দুই সপ্তাহ পরে শেক্সপিয়ার নামে একজন লেখকের বই বাজারে আসে। মার্লোর আগের লেখার ধরণের সাথে শেক্সপিয়ারের লেখার অস্বাভাবিক মিল পাওয়া যায়। মার্লো নাস্তিক ছিলেন, তাই রাস্তাঘাটে চলাফেরা তাঁর জন্য বিপজ্জনক হয়ে উঠেছিলো।

উইলিয়াম শেক্সপিয়ার নামে যাকে আপনারা চেনেন তার পড়াশোনা ছিলো স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত। রেকর্ড অনুযায়ী তার বাবা-মাও অশিক্ষিত ছিলেন। তবে অশিক্ষিত বাবা-মা’র ঘরেও বড় লেখক জন্মাতে পারেন কিন্তু মুশকিল হলো ওই উইলিয়াম শেক্সপিয়ারের ছেলেমেয়ারাও অশিক্ষিত ছিলেন। টিউডর যুগের একজন এতো বড় লেখকের সন্তানরা স্কুলে পড়াশোনার সুযোগ পায় নি এটি বিশ্বাসযোগ্য নয়। শেক্সপিয়ারের লেখায় যে উঁচুমানের গ্রামার ও ভোকাবুলারি পাওয়া যায়, তা কেবল ওই সময়ের বিশ্ববিদ্যালয় গ্রাজুয়েটদেরই দখলে ছিলো। কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে শেক্সপিয়ার পড়েছেন এরকম রেকর্ড আজ পর্যন্ত পাওয়া যায় নি।

শেক্সপিয়ারের কিছু চিঠিপত্র ও ব্যবসায়িক কাগজ টিকে আছে, কিন্তু এগুলোতে তিনি যে লেখক ছিলেন তার কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায় না। বরং উল্টো তিনি জমিজমার ব্যবসার করতেন এরকম প্রমাণ পাওয়া যায়।

শেক্সপিয়ার তার প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনার ঘাটতিকে অভিজ্ঞতা বা ঘরোয়া পড়াশোনা দ্বারা পূরণ করেছিলেন এরকম ইঙ্গিতও পাওয়া যায় না। নথিপত্র অনুযায়ী স্ট্রাটফোর্ডের উইলিয়াম শেক্সপিয়ার কোনোদিন ইংল্যান্ডের বাইরে ভ্রমণও করেন নি।

মৃত্যুপরবর্তী উইলে তিনি তার পরিবার ও বন্ধুবান্ধবদের যে-উপহারসামগ্রী ও সম্পত্তি দিয়ে গেছেন তার কোথাও কোনো লাইব্রেরি বা বইয়ের উল্লেখও পাওয়া যায় নি। অথচ এরকম মাপের একজন লেখকের একটি বড় লাইব্রেরি থাকার কথা।

আরেকটি ব্যাপার হলো- স্ট্রাটফোর্ডের শেক্সপিয়ার মারা যাওয়ার পর ইংল্যান্ডে তার মৃত্যুকে ঘিরে কোনো প্রকার শোক পালন করা হয়েছে বলে জানা যায় না।

লেখক শেক্সপিয়ারকে কেউ দেখেছেন এরকম কোনো প্রমাণও নেই। তাঁর যতো ছবি পাওয়া যায় সবই শিল্পীদের আঁকা কাল্পনিক ছবি।

তবে অনেকের, যেমন গিলবার্ট স্লেটার প্রস্তাবনা হলো যে- শেক্সপিয়ার মোটেও পুরুষ ছিলেন না। বরং তিনি ছিলেন ছিলেন কোনো উচ্চশিক্ষিত নারী, কারণ শেক্সপিয়ারের লেখার ধরণের সাথে তখনকার উচ্চশিক্ষিত নারীদের লেখার মিল আছে। সম্ভবত কবি ফিলিপ সিডনির বোন ম্যারি সিডনি শেক্সপিয়ার নামে লিখতেন। ম্যারির উঁচু ক্লাসিকেল পড়াশোনা ছিলো, এবং তিনি রাণী প্রথম এলিজাবেথের কোর্টে কাজ করতেন। তখন নারীদের লেখা কেউ পড়তে চাইতো না, এই অভিমানে ম্যারি সিডনি বেছে নিয়েছিলেন শেক্সপিয়ার নামে একটি পুরুষ ছদ্মনাম।

এখানে আমার নিজের সিদ্ধান্তও একটু যোগ করতে চাই। আমি ইংল্যান্ডের প্রায় সবগুলো যাদুঘর, ও পাবলিক গ্রন্থাগারসমূহে ঘুরে শেক্সপিয়ারের অস্তিত্বের বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ খুঁজেছি। কিন্তু পাই নি।

মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
(নকল শেক্সপিয়ার)

“ইরফান খান, দ্য সিনে পোয়েট অফ ভিউ” পড়তে ক্লিক করুন। আইটি প্রতিদিনের সাথেই থাকুন।

Related Posts

Leave a Comment